বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে। সমর্থকদের উন্মাদনা তুঙ্গে। এমনই এক স্মরণীয় অধ্যায় ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল, যেখানে জিনেদিন জিদানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ফ্রান্সকে এনে দিয়েছিল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা।
ফাইনালের ঐতিহাসিক মুহূর্ত
ফ্রান্সের স্তাদ দে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত সেই ফাইনালে স্বাগতিকরা মুখোমুখি হয়েছিল তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। ম্যাচটিতে জিদান নিজের স্বাভাবিক খেলার ধারা ছাড়িয়ে আলো ছড়িয়েছিলেন আকাশপথে। প্রথমার্ধে দুটি কর্নার থেকে হেডে গোল করে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে ভেঙে দেন তিনি। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এক ম্যাচে হেড থেকে দুটি গোল করার কীর্তি এখনো একমাত্র জিদানের দখলেই রয়েছে।
কর্নার থেকে জাদু
ইমানুয়েল পেতি ও ইউরি জোরকায়েফের কর্নার থেকে আসা বল কাজে লাগিয়ে মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী হেডে গোল করেন ফরাসি মিডফিল্ডার। তার জোড়া গোলের ভিত্তিতেই ব্রাজিলকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জেতে ফ্রান্স।
মজার বিষয় হলো, সেই ফাইনালে জিদান একাই হেড থেকে যে দুটি গোল করেছিলেন, পরবর্তী তিনটি বিশ্বকাপ আসরে ফ্রান্স দল মিলিয়েও তত গোল করতে পারেনি। ১৯৯৮ সালের পর ২০০৬ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে পাত্রিক ভিয়েরার একটি হেডই ছিল ওই সময়ের মধ্যে ফ্রান্সের একমাত্র হেডে পাওয়া গোল।
জিদানের অন্যান্য হেড গোল
জাতীয় দলের হয়ে জিদান শুধু ব্রাজিলের বিপক্ষেই নয়, চেক প্রজাতন্ত্র, মাল্টা ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও হেড থেকে গোল করেছিলেন। এছাড়া ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে তার একটি শক্তিশালী হেড গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফনের অসাধারণ সেভে আটকে না গেলে ইতিহাস হয়ত অন্যরকমও হতে পারত।
পেলের সঙ্গে তুলনা
বিশ্বকাপ ফাইনালে একাধিকবার হেড থেকে গোল করার কৃতিত্ব আরেক কিংবদন্তি ফুটবলারেরও রয়েছে। তিনি ব্রাজিলের পেলে। তবে পেলে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালে হেডে গোল করেছিলেন—প্রথমটি ১৯৫৮ সালে সুইডেনের বিপক্ষে এবং দ্বিতীয়টি ১৯৭০ সালে ইতালির বিপক্ষে। অন্যদিকে, একক কোনো ফাইনালে হেডে জোড়া গোল করার অনন্য রেকর্ড এখনো জিদানের নামের পাশেই অমলিন হয়ে আছে।



