মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি ও ক্রমবর্ধমান জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে সরকার তার সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং জাতীয় বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে। চালের দাম বৃদ্ধি, সংসার খরচ মেটানোর সংগ্রাম এবং ইউটিলিটি বিল বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারের আলোচনা এখন আর শুধু সন্তানের শিক্ষা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ নয়। অন্যদিকে, সরকারি অফিসে অর্থনীতিবিদ, আমলা ও নীতিনির্ধারকরা ভিন্ন ধরনের প্রশ্ন নিয়ে ব্যস্ত। কীভাবে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো যায়? আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সংস্কার শর্ত কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব? বাজেট ঘাটতি না বাড়িয়ে কীভাবে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা যায়?
মধ্যবিত্তের দুশ্চিন্তা
ঢাকার একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের রাতের খাবারের টেবিলে এখন আলোচনা হয় বাজেট নিয়ে। চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন গৃহিণীরা। ইউটিলিটি বিল বাড়লে কী হবে, সেই শঙ্কায় রয়েছেন সবাই। একই সময়ে, সরকারি অফিসে অর্থনীতিবিদ ও আমলারা রাজস্ব বাড়ানোর উপায় নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন। আইএমএফের শর্ত পূরণ করাও বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রেখে কীভাবে সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানো যায়, সেই চিন্তায় রয়েছেন নীতিনির্ধারকরা।
অর্থনীতির বাস্তবতা
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন চাপের মুখে। মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। রাজস্ব আহরণে ঘাটতি থাকায় সরকারের উন্নয়ন ব্যয় সীমিত হচ্ছে। আইএমএফের ঋণ শর্ত অনুযায়ী কিছু সংস্কার করতে হবে, যা স্বল্পমেয়াদে জনগণের ওপর চাপ ফেলতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ সংস্কার অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।
সামনের পথ
বাজেট প্রণেতাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভারসাম্য রক্ষা করা। একদিকে জনগণের জীবনযাত্রার খরচ কমাতে ভর্তুকি দিতে হবে, অন্যদিকে ঘাটতি কমাতে রাজস্ব বাড়াতে হবে। এই কঠিন পথে হাঁটতে হবে সরকারকে। আগামী বাজেট বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



