'লাইভ ফ্রম ঢাকা' নির্মাতার নতুন ওটিটি সিরিজ 'অ্যানি'র ট্রেলার প্রকাশ
'লাইভ ফ্রম ঢাকা' নির্মাতার 'অ্যানি'র ট্রেলার প্রকাশ

‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ বা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’-এর মতো আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করা নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য নিয়ে আসছেন তাঁর নতুন প্রজেক্ট ‘অ্যানি’। সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে সিরিজটির প্রথম ট্রেলার, যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

ট্রেলারে কী দেখা গেছে?

ট্রেলার থেকে আভাস পাওয়া যায়, এটি একটি ডিস্টোপিয়ান অর্থাৎ ধ্বংসোন্মুখ ও অন্ধকার ভবিষ্যতের গল্প। সেখানে ‘রেড ডিজিজ’ নামের একটি রহস্যময় ভাইরাসের থাবায় অবরুদ্ধ পুরো সমাজ। তবে এটি কোনো সাধারণ মহামারি নয়; ট্রেলারের ভাষায় এটি একটি ‘হেট ভাইরাস’ বা ঘৃণার ভাইরাস, যা মানুষের ভেতরে মারাত্মক আসক্তি তৈরি করে। এই চরম সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে ‘লাকি সিক্স’ নামের এক পরিবার—যাদের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অ্যানি, বেনি, জেনি, এপ্রিল, মে এবং তাদের একমাত্র ছোট ভাই জুন। এই অদ্ভুত ও বৈরী পরিস্থিতিতে তাদের টিকে থাকার লড়াই এবং ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তরই গল্পটির মূল চালিকাশক্তি।

নির্মাণশৈলী ও ভিজ্যুয়াল

ভিজ্যুয়াল বা নির্মাণশৈলীর দিক থেকে সাদ তাঁর নিজস্ব সিগনেচার স্টাইল বজায় রেখেছেন। পুরো ট্রেলার জুড়েই ব্লু অ্যান্ড ডার্ক প্যালেট অর্থাৎ নীলচে ও অন্ধকার রঙের আবহ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দর্শকদের মনে এক ধরনের ঠান্ডা অস্বস্তি ও বদ্ধ পরিবেশের ভয় তৈরি করে। প্রতিটি ফ্রেম, লন্ঠনের আলো কিংবা ইমার্জেন্সি লাইটের ব্যবহার রহস্যের গভীরতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আবহ সংগীতে বড় কোনো বাদ্যযন্ত্রের বদলে মানুষের দীর্ঘশ্বাস, দরজায় আঘাত, বাচ্চার কান্না আর সংলাপের মধ্যবর্তী নীরবতাকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা পুরো আবহকে দারুণ রিয়েলিস্টিক করে তুলেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিনয়শিল্পী ও চমক

প্রধান চরিত্রে নাজিফা তুষির উপস্থিতি ছিল বেশ জোরালো ও ইনটেন্স। তবে ট্রেলারটির সবচেয়ে বড় চমক ছিল ঢালিউডের জনপ্রিয় বাণিজ্যিক ধারার নায়ক সাইমন সাদিক। চিরাচরিত বাণিজ্যিক ধারার নায়কের খোলস ভেঙে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের মতো একজন ভিন্নধারার নির্মাতার ডার্ক, মনস্তাত্ত্বিক ক্যানভাসে সাইমনকে এভাবে আবিষ্কার করা যাবে—তা হয়তো দর্শক ও সমালোচকদের কল্পনারও বাইরে ছিল। ট্রেলারে তাঁর অন্যরকম লুক ও উপস্থিতি পুরো প্রজেক্টে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সাইমন ছাড়াও এই সিরিজে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান ও সারিকা সাবরিন।

গভীর বার্তা ও কৌতূহল

ট্রেলারের সংলাপে জেন্ডার পলিটিক্স এবং মানুষের জন্মগত মনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতার মতো কিছু গভীর ও দার্শনিক বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা দর্শককে ভাবিয়ে তোলে। চিরাচরিত মেলোড্রামার বাইরে গিয়ে মানুষের ভেতরের অন্ধকারকে পর্দায় আনার যে নিজস্ব কায়দা সাদের রয়েছে, ‘অ্যানি’র ট্রেলার তারই প্রমাণ দেয়। ট্রেলারের শেষ সংলাপ—‘এখন তুমি কী করবে অ্যানি?’—দর্শকদের মনে তীব্র কৌতূহল ও উন্মাদনা জিইয়ে রেখে শেষ হয়, যা সিরিজটির প্রতি প্রত্যাশা অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

ওটিটির জন্য তৈরি সাদের প্রথম এই মিনি সিরিজটি মুক্তির আগেই দেশের বাইরে সম্মানজনক আন্তর্জাতিক উৎসবে জায়গা করে নিয়েছে। জার্মানির কোলন শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সিরিজ উৎসব ‘সেরিয়েনক্যাম্প’-এর ‘স্পটলাইট: উইমেন ইন সিরিজ’ বিভাগে বিশ্ব প্রিমিয়ারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ‘অ্যানি’। বাংলাদেশের কোনো সিরিজের জন্য এই ধরনের বৈশ্বিক স্বীকৃতি এটিই প্রথম।

‘অ্যানি’র ট্রেলার ইতিমধ্যে দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মুক্তির তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে প্রত্যাশা তুঙ্গে।