সম্প্রতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নামে একটি ভুয়া খুদে বার্তা পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন ঢাকার বেসরকারি চাকরিজীবী নিয়াজ মোর্শেদ। বার্তায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উল্লেখ করে জরিমানা পরিশোধের জন্য একটি ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া হয়। তবে নিয়াজ সন্দেহ করেন, কারণ তিনি সব সময় ধীরগতিতে মোটরসাইকেল চালান এবং অবৈধ পার্কিং করেন না।
বন্ধুর বার্তা মিলিয়ে প্রতারণার সত্যতা
নিয়াজ তার বন্ধুকে বিষয়টি জানালে জানতে পারেন, বন্ধুটিও একই ধরনের বার্তা পেয়েছেন, যদিও তার কোনো যানবাহন নেই। তখনই তারা বুঝতে পারেন এটি একটি প্রতারক চক্রের ফাঁদ। গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এ ধরনের ভুয়া বার্তা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ডিএমপির সতর্কবার্তা
এ অবস্থায় গত ২৫ মে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ একটি সতর্কবার্তা জারি করে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এমন কোনো বার্তা ডিএমপির পক্ষ থেকে পাঠানো হচ্ছে না। সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রতারণা থেকে বাঁচতে যা জানা জরুরি
- ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ ৭ মে থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে। এআইভিত্তিক ক্যামেরায় সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের নামে ডিজিটালি মামলা দেওয়া হয়।
- প্রাথমিকভাবে আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি ম্যানুয়ালি বিশ্লেষণ করে ডাকযোগে মালিকের ঠিকানায় মামলার তথ্য পাঠানো হয়।
- সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী, গাড়ির মালিকের ঠিকানায় পাঠানো চিঠিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকবে।
- প্রয়োজনে ০১৩২০-০৪২২০৭ ও ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর থেকে খুদে বার্তা পাঠানো হয়।
- জরিমানা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের (উপায় ও সিবিবিএল) মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়।
- ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ কখনোই পিন কোড, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি জানতে চায় না।
- যেকোনো তথ্যের জন্য ০১৩২০-০৪২২০৭, ০১৩২০-০৪২২২৭ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করুন।
সুতরাং, সতর্ক থাকুন এবং ভুয়া বার্তায় প্রতারিত হবেন না।



