ইরানের জেনারেল ভাহিদির মৃত্যুর গুঞ্জন, নিশ্চিত করেনি কেউ
ইরানের জেনারেল ভাহিদির মৃত্যুর গুঞ্জন, নিশ্চিত করেনি কেউ

ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জেনারেল আহমেদ ভাহিদি তেহরানে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে অসমর্থিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে। এই খবরের পর ইরানের সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাঁর নিহত হওয়ার এই গুঞ্জনের কথা জানা গেছে।

কে এই জেনারেল ভাহিদি?

আহমেদ ভাহিদি ইরানের আধা সামরিক বাহিনী রেভোল্যুশনারি গার্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করা এই জেনারেল যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধবিরতি আলোচনার ক্ষেত্রে ইরানের কট্টর অবস্থান বজায় রাখতে প্রধান ভূমিকা রাখছিলেন। তাঁকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনির সরাসরি সংস্পর্শে থাকা একটি ছোট প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য বলে মনে করা হয়।

গুঞ্জনের সূত্রপাত

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ওপর নজর রাখছেন, এমন বেশ কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকের অ্যাকাউন্ট থেকে এই দাবির সূত্রপাত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসমর্থিত সব প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, তেহরানে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বিমান হামলায় ভাহিদি নিহত হয়েছেন। তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা পর্যন্ত ইরান সরকারের পক্ষ থেকে ভাহিদির মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে বা জনসমক্ষে নিশ্চিত করা হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আগের গুঞ্জনও ভিত্তিহীন প্রমাণিত

এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন সূত্র থেকেও সত্যতা পাওয়া যায়নি। এমনকি ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য বা নিশ্চিত করেননি। এর আগেও ভাহিদির মৃত্যুর বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, যা পরে ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভাহিদির ভূমিকা ও প্রভাব

আঞ্চলিক রাজনীতি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে জেনারেল ভাহিদি দীর্ঘদিন ধরেই একজন বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ বলেছে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ ভাহিদি ও ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের ভেতরে থাকা তাঁর নিজস্ব ঘনিষ্ঠ বলয়টি বর্তমানে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনারেল ভাহিদির এই গোষ্ঠী ইরানের বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তাদের ‘কোণঠাসা’ করে রেখেছে। একই সাথে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো ধরনের আপস বা সমঝোতার বিরুদ্ধে একটি কট্টরপন্থী অবস্থানের নেতৃত্ব দিচ্ছে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

জেনারেল ভাহিদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে কঠোর আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন। সমালোচকদের মতে, তাঁর এসব বক্তব্য ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রতি ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের সংঘাতময় অবস্থানেরই বড় প্রমাণ। সামরিক বিশ্লেষক ও আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভাহিদি নিহত হওয়ার খবর সত্য প্রমাণিত হলে তা ইরানের নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য একটি বড় ধাক্কা হবে।

আইআরজিসির গুরুত্ব

ইরানের সামরিক, গোয়েন্দা ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চালানো সব ধরনের আঞ্চলিক অভিযান পরিচালনার মূল দায়িত্বে রয়েছে আইআরজিসি। ফলে এই আধা সামরিক বাহিনী দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। জেনারেল ভাহিদির মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর ইসরায়েলপন্থী ও ইরান সরকারের বিরোধিতাকারীদের মধ্যে নতুন তৎপরতা দেখা গেছে। আইআরজিসির বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটে ইউরোপের দেশগুলোর আরও জোরালো সমর্থনের দাবি তুলেছেন তাঁরা।

ইরানের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক নীতি নেওয়ার পক্ষে থাকা এই বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ‘স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী’ কর্মকাণ্ড রুখতে পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানো। একই সাথে এই অঞ্চলে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা।