বজ্রপাত ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে সরকার
বজ্রপাত ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার

সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং বজ্রপাতসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিদ্যমান জাতীয় নীতিমালা আধুনিকায়ন ও তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সোমবার ১৩তম জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ও নীতিমালা

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মণি (আসন-১০) এর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী, টর্নেডো, বন্যা, খরা ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার ইতোমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতি ২০১৫, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য জাতীয় পরিকল্পনা (২০২১-২০২৫) এবং দুর্যোগ সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ (এসওডি) প্রণয়ন করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এসব পরিকল্পনাকে আরও প্রাসঙ্গিক ও আধুনিক করতে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে এসওডি সংশোধন এবং ২০২৬-২০৩০ সালের জন্য নতুন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ইনস্টিটিউট

একই সময়ে, প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণা কার্যক্রম প্রচারের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ জাতীয় ইনস্টিটিউটের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বজ্রপাত ঝুঁকি হ্রাসে উদ্যোগ

এদিকে, বজ্রপাতে মৃত্যু সংক্রান্ত সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা (আসন-২) এর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বজ্রপ্রবণ এলাকায় মৃত্যু কমাতে সরকারের বেশ কয়েকটি উদ্যোগ তুলে ধরেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা বজ্রপাত ঝুঁকি কমাতে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বজ্রপাতের পূর্বাভাস তৈরি করে গণমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যম এবং ইন্টিগ্রেটেড ভয়েস রেসপন্স (আইভিআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়াও, লিফলেট, পোস্টার এবং বিশেষ মহড়া বিতরণের মাধ্যমে সচেতনতা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বজ্রপ্রবণ এলাকায় বজ্রপাত নিরোধক রডযুক্ত কৃষক আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং ব্যাপক তালগাছ রোপণ কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের পরিকল্পনা করছে সরকার, যা বজ্রপাতের প্রভাব কমাতে সহায়তা করবে।