রাজশাহীতে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত
রাজশাহীতে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

রাজশাহীতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনে মৃদু তাপপ্রবাহ মাঝারি আকার ধারণ করেছে। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে অনুভূত তাপমাত্রা অনেক বেশি।

তাপমাত্রার চিত্র

বৃহস্পতিবার রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বুধবার ছিল ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে মঙ্গলবার ৩৭.৫, সোমবার ৩৭.৪ এবং রোববার (৩১ মে) ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নির্দেশ করে।

তাপপ্রবাহের শ্রেণিবিন্যাস

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ৩৮ থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জনজীবনে প্রভাব

প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি পেতে রাস্তার পাশে আখের রস ও ডাবের পানি বিক্রেতাদের কাছে ভিড় করছেন স্থানীয়রা। তবে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

রাতেও তেমন স্বস্তি মিলছে না। আকাশ পরিষ্কার থাকলেও আর্দ্রতা তাপ ধরে রাখছে। রাতের তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকলেও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে তা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো অনুভূত হচ্ছে। মধ্যরাতে তাপমাত্রা ২৮-২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এলেও আর্দ্রতা ৮৩ শতাংশে পৌঁছে যায়, যা অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।

ক্ষতিগ্রস্ত পেশাজীবীরা

স্থানীয় রিকশাচালক রহমত মিয়া (৪৫) বলেন, “রাস্তা থেকে যেন আগুন উঠছে। রিকশার সিটে বসা অসহনীয় হয়ে পড়েছে, বারবার গলা শুকিয়ে যায়। তবুও উপার্জনের জন্য এই চরম গরমে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছি।”

ট্রাফিক কনস্টেবল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “উপর থেকে সূর্যের তাপ আর নিচে যানবাহনের ইঞ্জিনের তাপে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ডিউটির সময় অল্প অল্প করে ওরাল স্যালাইন খেয়ে চলছি।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্ষেত্র পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রাস্তায় মানুষের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বাজার, সড়ক ও পাবলিক স্পেসগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক ফাঁকা। তবে রিকশাচালক, ভ্যানচালক, নির্মাণশ্রমিক ও দিনমজুরদের মতো খেটে খাওয়া মানুষজন সবচেয়ে বেশি ভুগছেন।

অনেক শ্রমিককে গাছের নিচে বা দোকানের সামনে অল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে। কয়েকজন জানান, দুপুরের পর কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

আগামী দিনের পূর্বাভাস

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, আগামী কয়েক দিন তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে এবং আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।