দুর্যোগ ম্যাপে সরকারি-বিরোধী দল বৈষম্যের অভিযোগ, ত্রাণমন্ত্রীর আশ্বাস
দুর্যোগ ম্যাপে বৈষম্যের অভিযোগ, ত্রাণমন্ত্রীর আশ্বাস

সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য বিবেচনা করে দেশে দুর্যোগের কোনও আলাদা মানচিত্র তৈরি হয়েছে কিনা, জাতীয় সংসদে এমন প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের টিআর-কাবিখার বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের তা দেওয়া হয়নি। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, যেসব সংসদ সদস্য বরাদ্দের জন্য চাহিদাপত্র দিয়েছেন, তারা আগামী কাল-পরশুর মধ্যেই তা পেয়ে যাবেন।

বৈষম্যের অভিযোগ

সোমবার (৮ মে) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের (বাজেট অধিবেশন) দ্বিতীয় দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই আশ্বাস দেন। বিকাল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন শুরু হয়।

অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, “আমাদের বাংলাদেশের দুর্যোগের যে ম্যাপ সেটাতে কি কোনও ধরনের পরিবর্তন এসেছে? কারণ আমরা দেখলাম যে, দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে গত ৩০শে এপ্রিলে যে বরাদ্দটা দেওয়া হয়েছে, সেটা শুধুমাত্র সরকারি দলের আসনগুলোতে দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের কারও আসনে বরাদ্দ দেওয়া হয় নাই। যদি এরকমটা হয়ে থাকে, যে বাংলাদেশে দুর্যোগগুলো যখন আসবে তখন শুধু সরকারি দলের আসনগুলোতেই আসবে, বিরোধী দলের আসনগুলোতে আসবে না, তাহলে হয়তো একভাবে হতে পারতো। কিন্তু দুর্যোগ যখন আসে তখন কিন্তু আমরা সবাই সাফারার হই।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ত্রাণ বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “গত ৩০শে এপ্রিলে ৮৫ লাখ টাকা এবং ৯০ টন করে চাল ও গম শুধুমাত্র সরকারি দলের এমপি বা সরকার দলের আসনগুলোতে বরাদ্দ করা হয়েছে। বিরোধী দলের কোনও আসনেই এটি দেওয়া হয়নি। এই অর্থ জনগণের ট্যাক্সের টাকা। জনগণের অর্থ আহরণ করে তারপরে এই বরাদ্দ করা হয়। বিরোধী দলের আসনের সাধারণ নাগরিকদের প্রতি এটি চূড়ান্ত বৈষম্য।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এসময় তিনি ত্রাণমন্ত্রীর কাছে বৈষম্য দূর করে কবে নাগাদ বিরোধী দলের এমপিদের সমতাভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হবে তা জানতে চান।

ডেপুটি স্পিকারের মন্তব্য

সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এই অভিযোগের পর সংসদে সভাপতিত্ব করা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “মাননীয় সদস্য আপনাকে ধন্যবাদ। মাননীয় মন্ত্রী, এটি একটি ভেরি ফান্ডামেন্টাল কোয়েশ্চেন (অত্যন্ত মৌলিক প্রশ্ন)। ইফ ইট ইজ ট্রু, আনফেয়ার (যদি এটি সত্য হয়, তবে তা অনুচিত)। আপনি দয়া করে একটু উত্তর দেন আমরা সবাই শুনি।”

ত্রাণমন্ত্রীর জবাব

ডেপুটি স্পিকারের নির্দেশনার পর অভিযোগের জবাব দিতে ওঠেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের নানা প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে বলেন, “দুর্যোগে আমাদের নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আমরা বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র করি, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র করি। যখন যেখানে দুর্যোগ সংঘটিত হয়, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে জেলা পর্যায়ে প্রত্যেকটা জেলা প্রশাসকের কাছে আমাদের জিআর ক্যাশ (নগদ অর্থ) এবং জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া রয়েছে।”

এমপিদের উন্নয়ন বরাদ্দের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “উনি (আখতার হোসেন) টিআর-কাবিখার কথা বলেছেন। যেসব এমপি মহোদয়রা আমাদের কাছে চাহিদাপত্র দেন, সেখানে আমরা বরাদ্দ দিয়ে থাকি। আমার মনে হয় যে কাল-পরশুর মধ্যে ওনারা ওনাদের বরাদ্দ পেয়ে যাবেন।”

এসময় সংসদে উপস্থিত অভিযোগকারী সংসদ সদস্যসহ অন্যদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, “আপনারাও পেয়ে যাবেন। আপনাদের মধ্যে যারা চাহিদাপত্র দিয়েছেন তাদেরকে আমরা বরাদ্দ দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ পেয়ে যাবেন। ধন্যবাদ আপনাকে।”