ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের সময় জানিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত এই নেতার স্মরণসভায় গঠিত কমিটি জানিয়েছে, মহররমের প্রথম দশ দিন পার হলে জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
দ্বিতীয় বিবৃতি প্রকাশ
ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কমিটির সদর দপ্তর মঙ্গলবার (০৯ জুন) খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের জানাজা এবং স্মরণসভা নিয়ে দ্বিতীয় বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাবেক সর্বোচ্চ নেতার স্মরণ, জানাজা এবং দাফন অনুষ্ঠান মর্যাদাপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
গণমাধ্যমে জল্পনা সতর্কতা
বিবৃতিতে দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমে এই আয়োজনের সময় ও বিবরণ নিয়ে জল্পনা এবং যাচাইবিহীন প্রতিবেদন প্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধরনের অসত্য তথ্য ঐতিহাসিক সমাবেশে যোগ দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে এবং এ ধরনের তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই।
ইমাম হুসাইনের শোকানুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গতি
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইমাম হুসাইনের শোকানুষ্ঠান পালনের বিষয়ে শহীদ নেতার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, আশুরার পর মহররম মাসের প্রথম দশ দিন শেষে জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। কমিটি বলছে, শোকাহতদের যথাযথ পরিষেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রিয় সংগঠনগুলো চূড়ান্ত সময়সূচি ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় করছে। অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সদর দপ্তর থেকে পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।
হামলার ঘটনা
উল্লেখ্য, ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শুরুর দিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজ কার্যালয়ে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। এর আগে তেহরানের ইসলামি প্রচার সমন্বয় পরিষদের প্রধান মহসেন মাহমুদ বলেছিলেন, খামেনির জানাজা এমন একটি বৈশ্বিক আয়োজন হবে, যা ইরান ও সমগ্র ইসলামি বিশ্বের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইতোমধ্যে ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন ও প্রস্তুতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
খামেনির জীবনী
আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি টানা ৩৬ বছর ছয় মাস এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।



