ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে উগ্রপন্থি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও সেখানে তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক পরিস্থিতির জেরে এবার একযোগে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্বের শক্তিশালী পাঁচ দেশ। দেশগুলো হলো- যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স ও নরওয়ে।
যৌথ বিবৃতিতে কী বলা হয়েছে?
মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে দেশ পাঁচটি জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে এবং এর জন্য দায়ী কট্টরপন্থি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই তারা এই সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত
মঙ্গলবার নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারির পর, এই পাঁচ দেশের জোটটি ইসরায়েল সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সেখানকার মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ যদি জরুরি পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে তারা সামনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা
প্রকাশিত এক সরকারি নোটিশে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্য তাদের বৈশ্বিক মানবাধিকার নিষেধাজ্ঞা কাঠামোর আওতায় নতুন করে সাতটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে তাদের এই নিষেধাজ্ঞার নিশানা করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় তাদের সম্পদ জব্দ এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ফ্রান্সের পদক্ষেপ
অন্যদিকে, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট জানিয়েছেন, অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে ফ্রান্সও অধিকৃত ওই ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর নিজস্ব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। তিনি আরও বলেন, এই সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একজোট হতে হবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই যৌথ নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তারা বলেছে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা, যা ফিলিস্তিনি জনগণের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। এই পদক্ষেপ ইসরায়েল সরকারকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে বাধ্য করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা



